বাংলাদেশ আবিষ্কৃত মূল্যবান খনিজ সম্পদের বাজারমূল্য ২ কোটি ৪১ লাখ ৯৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা (বা ২.২৬ ট্রিলিয়ন ডলার)!
বাংলাদেশে মজুদ খনিজ সম্পদের অর্থমূল্য নিরূপণ করেছে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি)। হিসাব অনুযায়ী, প্রাকৃতিকভাবে মজুদ খনিজ সম্পদের মূল্য ২ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন (২ লাখ ২৬ হাজার কোটি) ডলারের বেশি। বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ ২৪১ দশমিক ৯৭ ট্রিলিয়ন ।
তবে জিএসবির এ হিসাবে দেশে মজুদ প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্যকে ধরা হয়নি। প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্যকে বিবেচনায় নেয়া হলে দেশে মজুদ খনিজ সম্পদের মূল্য আরো কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার বাড়বে।
জিএসবি দেশে আবিষ্কৃত আট ধরনের খনিজ সম্পদের আর্থিক বাজারমূল্য নিরূপণ করেছেল। যেখানে....
কয়লা মজুদ রয়েছে ৭২৫ কোটি টনের বেশি। যেখানে বড় খনি আছে ৫ টি। সর্ববৃহৎ জয়পুরহাটের জামালগঞ্জে ১০৫ কোটি ৩০ লাখ টন, দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ায় ১০ কোটি ২০ লাখ, রংপুরের খালাসপীরে ১৪ কোটি ৩০ লাখ এবং দিনাজপুরের দীঘিপাড়ায় ৪০ কোটি ২০ লাখ টন কয়লার মজুদ রয়েছে। বাজারমূল্য টনপ্রতি ১৭৫ ডলার হিসাব করলে এ পরিমাণ কয়লার দাম দাঁড়ায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৯০ কোটি ডলার (বা ১২৬৮ বিলিয়ন ডলার)। যেখানে জামালগঞ্জের উত্তলনযোগ্য কয়লার প্রায় অর্ধেক ব্যাবহার করে বাংলাদেশের ৪৬ বছরের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করা যাবে।
পিট কয়লার সম্ভাব্য মজুদ রয়েছে প্রায় ৬০ কোটি টন।
মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওরে ২৮ কোটি ২০ লাখ টন, গোপালগঞ্জের বাঘিয়া-চান্দা বিলে ১৫ কোটি, সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সাড়ে ৭ কোটি, শাল্লায় ৫ কোটি ২০ লাখ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ৩ কোটি ২০ লাখ ও খুলনার কলামৌজায় ৮০ খাল টন।
প্রতি টন ৬০ ডলার হিসেবে এর মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৩ হাজার ৫৯০ কোটি ডলারে (৩৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার)।
খনিজ বালি পাওয়া যায় কক্সবাজার, ব্রহ্মপুত্র নদে। এছাড়াও অন্যান্য বড় নদীগুলোয়ও আছে মূল্যবান খনিজ বালি। যেখানে সাদামাটি, কাচবালি, নুড়িপাথর উল্লেখযোগ্য।
সাদামাটি রয়েছে টাঙ্গাইলের মধুপুরে সাড়ে ১২ কোটি টন, হবিগঞ্জের মাধবপুরে ৬ কোটি ৮০ লাখ টন, নেত্রকোনার বিজয়পুরে আড়াই কোটি টন। আবিষ্কৃত প্রায় ২৩ কোটি টন।আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার। কাচবালি আছে ৫১১ কোটি ৭০ লাখ টন, যার মূল্য ৬০ বিলিয়ন ডলার। নুড়িপাথর মজুদ আছে প্রায় ২২০ কোটি টন মূল্যমান ৩৩ বিলিয়ন ডলার।
চুনাপাথরের বিশাল ভাণ্ডার আছে জয়পুরহাটে মাটির নিচে। দেশে চুনাপাথর রয়েছে ২ হাজার ৫২৭ কোটি টন। বর্তমানে অর্থমূল্য ৭৫ হাজার ৮০০ কোটি ডলার বা ৭৫০ বিলিয়ন ডলার । সবচেয়ে বেশি চুনাপাথর মজুদ রয়েছে উত্তরের জেলা নওগাঁয়। জেলায় তাজপুর, বদলগাছি, ভগবানপুরে আড়াই হাজার কোটি টনের বেশি চুনাপাথর মজুদ রয়েছে।
কঠিন শিলা আছে ২০ কোটি ১০ লাখ টন, যার আর্থিক মূল্যমান বর্তমান বাজারে প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলার ।
এছাড়া ইউরেশীয়-বার্মা প্লেটের সংযোগস্থল চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলে গ্যাস ও জ্বালানি তেল মজুদের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
© তথ্যসূত্র সংবাদপত্র এবং ইন্টারনেট থেকে।
