• জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনাদর্শ, মুজিববর্ষ, স্মার্ট বাংলাদেশ দিবস, স্মার্ট বাংলাদেশ রূপকল্প, স্মার্ট বাংলাদেশের চারটি স্তম্ভ
• নির্বাচনী ইশতেহার, সকল ই-সেবা, ভিশন ২০২১, ২০৪১ এবং ডেল্টা প্ল্যান ২০৭১
• স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী, মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের অর্জনসহ প্রভৃতি বিষয় থেকে প্রশ্ন নির্ধারণ করা হবে।
"স্মার্ট বাংলাদেশ" হলো একটি আদর্শ বা লক্ষ্য, যা বাংলাদেশের ডিজিটাল প্রযুক্তি, ইনফরমেশন ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার ও উন্নতির দিকে একটি দক্ষিণ এশিয়ান দেশের উন্নত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠান করেছে।
এই ধারণা বা লক্ষ্যের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশকে একটি প্রযুক্তিবিদ্যা ও ডিজিটাল সমাজ তৈরি করে এনে বাংলাদেশকে একটি মুখ্য সংগঠন হিসেবে প্রযুক্তিবিদ্যা, সফ্টওয়্যার উৎপাদন, ইট, অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট, ইট সার্ভিসেস, ডিজিটাল মার্কেটিং, ডিজিটাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট, ইট স্কিল স্কুল, ডিজিটাল প্রশাসন, স্মার্ট সিটি প্রকল্প ইত্যাদি ডিজিটাল এবং প্রযুক্তি সেক্টরে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিউ ইকনমি উত্থানে সাহায্য করতে।
"স্মার্ট বাংলাদেশ" প্রকল্পটি শুরু হয়েছে বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে এবং এটি ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, টেক্নোলজি ইনকুবেটর, প্রযুক্তি স্টার্টআপ, ডিজিটাল মার্কেটিং ও প্রশাসনের মাধ্যমে নির্মিত হচ্ছে।
এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত আছে ডিজিটাল স্মার্ট সিটি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গবেষণা ও উন্নত কৃষি সেক্টরে স্মার্ট সমাধান। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ ডিজিটাল যোগাযোগ ও প্রযুক্তি সেক্টরে উন্নতি আস্তে আস্তে করার চেষ্টা করছে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি এবং মানব জীবনে সুধারে উপযুক্ত হতে সাহায্য করতে পারে।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুফল গ্রহণের মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশ করতে হলে প্রয়োজন স্মার্ট সিটিজেন। সামান্য চোখ-কান খোলা রাখলেই ভবিষ্যতে যাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকবে, তারাই ভালো কাজ পাবে। যাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকবে না, তারা কাজ হারাবে। তবে সবাই যে কাজের অযোগ্য হয়ে যাবে, তা মোটেই নয়। অনেক বেশি কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ফলে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ফলে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বর্তমানের চেয়ে ৫-১০ গুণও বাড়তে পারে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২ ডিসেম্বর ২০২২ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র (BICC) ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস ২০২২ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথির ভাষনে সর্ব প্রথম ‘স্মার্ট বাংলাদেশ‘গড়ার প্রত্যয়ন ব্যক্ত করেন।
১৯৭৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ১৫টি সংস্থার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) সদস্য পদ লাভ করে।
ডিজিটাল বিপ্লবের শুরু ১৯৬৯ সালে ইন্টারনেট আবিষ্কারের ফলে।
স্মার্ট বাংলাদেশ কী এবং কীভাবে তা অর্জিত হতে পারে, তা ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, ২০৪১ সাল নাগাদ আমাদের দেশ হবে স্মার্ট বাংলাদেশ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আয়োজিত ছাত্র সমাবেশে ঘোষণা করেছেন,
২০৪১ সালের বাংলাদেশ হবে উন্নত ও স্মার্ট। তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে তিনি রূপকল্প ২০২১, ২০৩১ ও ২০৪১ ঘোষণা করেছিলেন। ওই রূপকল্পগুলোয় তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করার বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, ওই রূপকল্পে ২০৩১ সালে বাংলাদেশকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে দারিদ্র্যকে পরাজিত করে উন্নত দেশে রূপান্তরিত করার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে বাংলাদেশ ডিজিটালের সীমানা অতিক্রম করে স্মার্টের দিকে অগ্রসর হয়েছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশের চারটি পিলার রয়েছে। এগুলো হলো-
# মানবসম্পদের উন্নয়ন,
# ডিজিটাল সরকারব্যবস্থা,
# ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে জনগণের মধ্যে সংযোগ স্থাপন এবং
# অর্থনৈতিক উন্নয়নে তথ্য ও প্রযুক্তির বহিঃপ্রকাশ। অন্যদিকে,
স্মার্ট বাংলাদেশের ভিত্তিঃ
৫ টি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে বিশ্বের উন্নত দেশ সমুহগুলো তাদের দেশকে স্মার্ট দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।স্মার্ট দেশে রুপান্তরিত হয়ার কারণ গুলো হল:-
• স্মার্ট গভার্মেন্ট
• স্মার্ট ইনভায়রমেন্ট
• স্মার্ট লিভিং
• স্মার্ট মবিলিটি ও
• স্মার্ট সিটিজেন।
স্মার্ট বাংলাদেশেরও চারটি পিলার রয়েছে। এগুলো হলো-
▪️স্মার্ট সিটিজেন,
▪️স্মার্ট ইকনোমি,
▪️স্মার্ট গভর্নমেন্ট ও
▪️স্মার্ট সোসাইটি-এ
স্মার্ট নাগরিকঃ
সাধারণ নাগরিকরা যখন একটি টেকসই ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে নিজেদের তথ্য আদান-প্রদানে দক্ষ ও সক্ষম হয়,তখনি তাদের স্মার্ট নাগরিক বলা হয়। স্মার্ট নাগরিক গড়তে করণীয় হলঃ-
• প্রথমত,সরকারি ও বেসরকারি খাতে তথ্য ও পরিষদের মাধ্যমে নাগরিকদের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থায় পরিনত করা।সকালের জন্য তথ্য এবং দক্ষ ও সহজ নিয়ম চালু করা।
• দ্বিতীয়ত,শ্রম বাজারের সুযোগ, বৃত্তি মুলক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সকল শ্রেণীর নাগরিকদের জন্য আজীবন ব্যবহারযোগ্য স্মার্ট অবকাঠামো নির্মাণ করা।
• তৃতীয়ত,স্মার্ট নাগরিকদের মাধ্যমে একটি স্মার্ট শহর ও সপ্রদায়ের মধ্যে সমৃদ্ধি তৈরি করা। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুফল গ্রহণের মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে প্রয়োজন স্মার্ট নাগরিক।
স্মার্ট অর্থনীতিঃ
স্মার্ট অর্থনীতি একটি দেশর অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।ক্যাশলেজ ট্রানজেকশন বা টাকাবিহীন লেনদেন স্মার্ট অর্থনীতির অঙ্গ। অর্থনীতির সব লেনদেন ও ব্যবহার হবে প্রযুক্তি নির্ভর। সামগ্রিক ব্যবসায়ী পরিবেশের উন্নতি ও বিনিয়োগের জন্য আকর্ষনিয় ও প্রতিযোগিতা মুলক কর্মসূচি পালন করা।
স্মার্ট অর্থনীতিতে নতুন প্রযুক্তিগত বিকাশ, সম্পদের দক্ষতা, স্থায়িত্ব এবং উচ্চ সামাজিক কল্যাণের উপর ভিত্তি করে একটি টেকসই অর্থনীতির ভিত্তি এমন ভাবে দাড় করানো হয় সেখানে উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। এতে নাগরিকের জীবন যাত্রার মান বৃদ্ধি পায়,পন্যের গুনগত পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়,মুল্য নির্ধারণে উন্নত বিশ্বের সমতুল্য এবং মুক্তবাজার অর্থনীতিতে সমতা আনে।এবং দেশের অর্থনীতিতে সমৃদ্ধি আনে।
স্মার্ট সরকারঃ
স্মার্ট সরকার বলেতে মনে করা হয়,সহজ জবাবদিহিতা মুলক প্রতিক্রিয়া শীল এবং স্বচ্ছ শাসন।স্বচ্ছ রিপোর্টিং,সচেতনতা বৃদ্ধি, জনসাক্ষরতা ও জনসমপৃক্ততা, এবং কর্মক্ষেত্রের সর্বস্তরের তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করাই হচ্ছে স্মার্ট সরকারের মুল দ্বায়িত্ব। সরকার একটি প্রযুক্তি নির্ভর স্মার্ট কৌশল অবলম্বন করে এমন একটি গ্রহণ যোগ্য প্লাটফর্ম প্রদান করে,যেমন সমস্ত জনগণের পরিসেবায় গুনগত মান বজায় থাকে।
স্মার্ট সমাজঃ
যে সমাজের মানুষ তাদের দৈনন্দিন কাজের সবটাতেই প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে সম্পন্ন করে তাকেই স্মার্ট সমাজ বলে।আমাদের পুরো সমাজটাই হবে প্রযুক্তি নির্ভর। খাদ্য, মানসম্মত শিক্ষা, চিকিৎসা অর্থাৎ সমাজের সকল বিষয়েই প্রযুক্তির উপর নির্ভর থাকবে । স্মার্ট নাগরিকেরাই হবে স্মার্ট সমাজের প্রতিনিধি।
স্মার্ট সমাজ মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক কে মজবুত করবে,সহজেই সমাজের সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে। স্মার্ট সমাজে থাকবে না কোনো নারী পুরুষের ভেদাভেদ। এ সমাজ সকল শ্রেণীর নাগরিকদের কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
টাস্কফোর্স গঠনঃ
১৬ ই আগস্ট ২০২২ এ প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান করে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব সহ সরকারি – বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে ৩০ সদস্যর স্মার্ট বাংলাদেশ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়।
কার্যাবলি: স্মার্ট বাংলাদেশ টাস্কফোর্স-এর ৯ টি কার্যপরিধি সুস্পষ্ট বর্ণনা করা হয়েছে। যেমনঃ
• তথ্যপ্রযুক্তি বাস্তবায়ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান।
• শিক্ষা,স্বাস্থ্য, কৃষি ও আর্থিক খাতে স্মার্ট পদ্ধতিতে রুপান্তরিত হয়ার দিকনির্দেশনা প্রদান।
• স্মার্ট ও সর্বত্র বিরাজমান সরকার গড়ে তোলার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক,সামাজিক বানিজ্যিক ও বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিধিমালা প্রনয়নে দিকনির্দেশনা প্রদান।
• বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপনে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেচনা প্রদান।
• এজেন্সি ফর নলেজ অন এরোনোনটিক্যাল আ্যন্ড স্পেন হরাইজন (AKASH) প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান।
• বেন্ডড এডুকেশন পরিকল্পনা বাস্তবয়ানের এবং ফাইভ জি সেবা চালুর পর্বরতি সময়ে ব্যান্ডউইটথের চাহিদা বিবেচনায় চতুর্থ সাবমেরিন ক্যবলের সংযোগের প্রয়োজনীয়তার দিকনির্দেশনা প্রদান।
• রপ্তানির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মেড ইন বাংলাদেশ পরিসি প্রনয়ণ ও বাস্তবয়ানের লক্ষ্যমাত্রা নির্দেশনার দিকনির্দেশন প্রদান।
• আর্থিক খাতে ডিজিলাইজেশন বাস্তবয়ানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান।
• স্মার্ট বাংলাদেশ ২০৪১ বাস্তবয়ানের লক্ষ্য স্বল্প,মধ্য,ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দিকনির্দেশনা প্রদান।
ই-এডুকেশন, ই-হেলথসহ সব কিছুতেই ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করা হবে। ২০৪১ সাল নাগাদ আমরা তা করা সক্ষম হব এবং সেটা মাথায় রেখেই কাজ চলছে। আমাদের তরুণ সম্প্রদায় যত বেশি এই ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করা শিখবে, তারা তত দ্রুত দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের নানা অনুষঙ্গ ধারণ করে তরুণদের প্রশিক্ষিত করে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষায়িত ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হবে।
এ ধরনের ৫৭টি ল্যাব প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে। ৬৪টি জেলায় শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবিশন সেন্টার স্থাপন এবং ১০টি ডিজিটাল ভিলেজ স্থাপনের কার্যক্রম চলছে। ৯২টি হাই-টেক পার্ক, সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের নির্মাণ করা হচ্ছে। সারা দেশে ছয় হাজার ৬৮৬টি ডিজিটাল সেন্টার এবং ১৩ হাজারের বেশি শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে।
স্মার্ট বাংলাদেশ কীভাবে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। স্মার্ট বাংলাদেশের চার পিলারের প্রথমটি হলো-রাষ্ট্রের নাগরিকদের স্মার্ট হতে হবে। সে ক্ষেত্রে দেশের নাগরিকরা কীভাবে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্থানীয় ও অন্যান্য সমস্যার সমাধান করতে পারবে, সেদিকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, কারিগরি শিক্ষার প্রসার, ইকোসিস্টেম পুনরুদ্ধার, পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিদ্যুৎ সরবরাহ, কর্মসংস্থান, কৃষিজমির সীমানির্ধারণ, পোকামাকড় ও রোগবালাই দমন, জমি ক্রয়-বিক্রয়ে ডিজিটাল সিস্টেম, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, কৃষিপণ্য উৎপাদনে প্রযুক্তিগত সেবা প্রদান নিশ্চিতকরণ, উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত পণ্যের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশগত উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে করণীয়, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ নাগরিকদের স্মার্ট হিসাবে গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে। ডিজিটাল সিস্টেমে ওই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা দৃশ্যমান থাকারও বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বিগত দশকে বাংলাদেশ কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষায় অনেকটা অগ্রসর হয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৭০ মিলিয়ন মানুষ ইন্টারনেট সুবিধা পাচ্ছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪২ শতাংশ। ২০২১ সালের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০২৩ সালের মধ্যে আরও ২০ লাখ মানুষ বাড়তে পারে। বর্তমানে দেশের ৫০ শতাংশের বেশি মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৫ সালের মধ্যে ৬৩ শতাংশের বেশি মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহারের আওতায় আসবে।
স্মার্ট নাগরিকদের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ক্ষমতা রয়েছে। দেশটিতে কম্পিউটার সায়েন্স, আইন, কৃষি, ব্যবসা ও প্রকৌশলীর ওপর ব্যাপক গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে গ্র্যাজুয়েটরা সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায় জ্ঞান অর্জনে সক্ষম হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে থাকে। তাছাড়া প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ শতাংশের বেশি শিক্ষক অন্য দেশ থেকে এসেছে। ফলে ছাত্র ও শিক্ষকদের মধ্যে সংস্কৃতির দিকেও দূরত্ব অনেক কম। তাছাড়া র্যাংকিং অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শীর্ষস্থানে জায়গা করে নিয়েছে। অনেক সময় গ্র্যাজুয়েটরা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন শেষে উদ্যোক্তা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে থাকে।
সুতরাং, স্মার্ট বাংলাদেশে প্রযুক্তিগত শিক্ষার বিকল্প নেই। প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে নাগরিকরা কৃষির উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত সব প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে। যদিও বাংলাদেশের মানুষ এখন কৃষি উৎপাদনের বহু তথ্য ডিজিটাল সিস্টেমে সংগ্রহ করে; কিন্তু ভবিষ্যতে স্মার্ট বাংলাদেশের নাগরিকরা জমির উর্বরতা নির্ণয় ও সার প্রয়োগ, উন্নত জাতের বীজ সংগ্রহ, রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনের সব তথ্য ঘরে বসেই সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে।
স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে শিক্ষার গুরুত্বও অপরিসীম। সে ক্ষেত্রে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত উন্নত দেশের মতো কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার গুরুত্ব বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে শিক্ষক নিয়োগ, কোর্স কারিকুলাম, ক্লাসরুমে গবেষণাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও বিস্তারে নৈতিকতার গুরুত্ব বাড়াতে হবে। তাছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইনে উচ্চশিক্ষা ও উদ্ভাবিত প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে জনগণের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে গুরুত্ব বাড়াতে হবে। উদ্ভাবিত প্রযুক্তি দ্বারা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করে কীভাবে ভেজালবিহীন খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো যায়, সেদিকেও নজর দিতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার, রাজনীতিক, জনগণ ও গবেষকদের সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
বর্তমানে জমির খারিজ অনলাইনে সাত দিনেই সম্পন্ন হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ময়মনসিংহের ভালুকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে; যেখানে আবেদনকারী অনলাইনে আবেদন ও ডিসিআর কর্তন করার সাত দিনের মধ্যে খারিজটি হাতে পেয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে স্মার্ট বাংলাদেশে জমির ক্রয়-বিক্রয়ও অনলাইনে সম্পন্ন হতে পারে। ফলে স্মার্ট বাংলাদেশ সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে অর্থনীতির চাকা ত্বরান্বিত করতে সক্ষম হবে।
যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন স্মার্ট বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। বর্তমান সরকারের আমলে পদ্মা সেতুসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে উদ্বিগ্ন। জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো লবণাক্ততা, খরা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অসহনীয় তাপমাত্রা বৃদ্ধি। এসব প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলায় গবেষণালব্ধ তথ্য ও তত্ত্বের অবাধ সরবরাহ থাকতে হবে। খরা, লবণাক্ততা ও তাপমাত্রা সহিষ্ণু ফসলের জাত কৃষকের মধ্যে সরবরাহ নিশ্চিত করা অতীব জরুরি। যদিও বিজ্ঞানীরা উপরিউক্ত বিষয়ে অনবরত গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন; কিন্তু স্মার্ট বাংলাদেশে নাগরিকদের আগামী ৩০ বছর জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় প্রস্তুত করতে হবে। নতুবা প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতায় খাদ্য ঘাটতি ও পরিবেশের বিপর্যয় দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ‘ক্লাইমেট স্মার্ট লাইভেলিহুড’ মডেল তৈরি করা যেতে পারে। এ মডেলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রথমত, জনগণকে স্থানীয় নেতিবাচক প্রভাবগুলোর প্রতি স্থিতিস্থাপক হতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, লবণাক্ত এলাকায় এমন কিছু প্রযুক্তি প্রয়োগ করা উচিত, যা মাটিতে লবণের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করবে। দ্বিতীয়ত, জলবায়ু পরিবর্তনে অবদান রাখবে এমন কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে না। উদাহরণস্বরূপ, পরিবেশ বা খাদ্যে বিষাক্ততা সৃষ্টি করে এমন কোনো রাসায়নিক দ্রব্যাদি বা কীটনাশক ব্যবহার করা যাবে না। তৃতীয়ত, টেকসই জীবনযাপনে গুরুত্ব বাড়াতে হবে। এতে স্থানীয় জনগণ পরিবেশ সংরক্ষণে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবে। চতুর্থত, ক্লাইমেট স্মার্ট প্রযুক্তি এমন হতে হবে, যেখানে সমাজের মানুষ খুব কম বিনিয়োগেই পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখতে পারবে। উপরোক্ত বিষয়গুলোর বাস্তব প্রয়োগ হলেই বাংলাদেশকে পরিবেশবান্ধব ক্লাইমেট স্মার্ট দেশে পরিণত করবে বলে আশা করা যায়।
অন্যদিকে, বনায়ন ও ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য কীভাবে সংরক্ষণ করা যায়, সে বিষয়ে জনগণকে প্রযুক্তিগত তথ্যের অবাধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের মানুষ স্মার্ট নাগরিকে পরিণত হবে। ভবিষ্যতে প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে স্মার্ট নাগরিকরা পরিবেশ সংরক্ষণে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারবে।
‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গঠনে ‘স্মার্ট সরকারের’ গুরুত্বও বিবেচনায় আনতে হবে। সরকারের অধীনস্থ মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক জনগণকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদানই স্মার্ট সরকারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। খাদ্য উৎপাদন, বাসস্থান, শিক্ষা, ব্যবসা, চিকিৎসা, ভূমি ক্রয়-বিক্রয়সহ সব সেবাই সরকার কর্তৃক জনগণকে কোনো ধরনের বাধা ব্যতীত সঠিক সময়ে পৌঁছে দিতে হবে। যদিও বর্তমান সরকারের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সেবা ডিজিটাল সিস্টেমে জনগণ কর্তৃক গৃহীত হচ্ছে; কিন্তু উন্নত দেশের তুলনায় তা অনেকটা কম। উদাহরণস্বরূপ, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণে উন্নত প্রযুক্তি, আইন, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পরিবহণ ও যোগাযোগ সেক্টরে উন্নয়নের গুরুত্ব আরও বাড়াতে হবে, যা স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তরে সহায়ক হবে।
যদিও বাংলাদেশ সরকার ডিজিটাল সিস্টেমে উন্নত ও টেকসই সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সেবা নাগরিক কর্তৃক গৃহীত হলেই স্মার্ট সমাজের আবির্ভাব হবে। অন্যদিকে জনগণকে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত আইনকানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও প্রযুক্তি দ্বারা সমাজের উন্নতি সাধনে অনবরত কাজ করে যেতে হবে। সরকার কর্তৃক প্রণীত কৃষি, মৎস্য, ভূমি, ভেজালবিহীন খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশ সংরক্ষণে প্রযুক্তিগত তথ্যের বাস্তব প্রয়োগই স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হবে।
সুতরাং, স্মার্ট বাংলাদেশ হবে পরিবেশবান্ধব, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর, অর্থনৈতিকভাবে গতিশীল ও অবাধ তথ্যে সমৃদ্ধ টেকসই সমাজব্যবস্থা। স্মার্ট অর্থনীতিতে নতুন নতুন প্রযুক্তি, প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য, টেকসই ও উন্নত সমাজব্যবস্থা দেখা যাবে। স্মার্ট অর্থনীতি, পরিবেশবান্ধব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য উৎপাদন ও জলবায়ু পরিবতর্নে সুষ্ঠু বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে, ক্যাশলেস ক্রয়-বিক্রয়ও স্মার্ট অর্থনীতির চাকাকে ত্বরান্বিত করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে। উন্নত দেশের দিকে তাকালে দেখা যায়, ক্রয়-বিক্রয়, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ফি প্রদানসহ সবকিছু ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে। স্মার্ট বাংলাদেশে প্রবেশে, ক্যাশলেস ক্রয়-বিক্রয় অর্থাৎ অনলাইনে ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডে ক্রয়-বিক্রয় বাড়াতে হবে। পরিশেষে বলা যায়, স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট সরকার, স্মার্ট অর্থনীতি ও স্মার্ট সমাজব্যবস্থা একে অপরের পরিপূরক। সরকার, স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে সচেতন হলেও জনগণের সাহায্য ছাড়া কখনো স্মার্ট দেশে রূপান্তর সম্ভব নয়। পরিবেশ সংরক্ষণকে প্রাধান্য দিয়ে উন্নত ও টেকসই প্রযুক্তিই বাংলাদেশকে ‘স্মার্ট বাংলাদেশে’ রূপান্তর করতে পারে।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুফল গ্রহণের মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশ করতে হলে প্রয়োজন স্মার্ট সিটিজেন। সামান্য চোখ-কান খোলা রাখলেই ভবিষ্যতে যাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকবে, তারাই ভালো কাজ পাবে। যাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকবে না, তারা কাজ হারাবে। তবে সবাই যে কাজের অযোগ্য হয়ে যাবে, তা মোটেই নয়। অনেক বেশি কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ফলে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ফলে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বর্তমানের চেয়ে ৫-১০ গুণও বাড়তে পারে।
১৯৮১ সালের ১৭ মে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সময় থেকে অধ্যাবধি শত বাধা-বিপত্তি এবং হত্যার হুমকিসহ নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা জনগণের ভাত-ভোট এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ের জন্য অবিচল থেকে সংগ্রাম চালিয়ে আসছেন।
সকল ই-সেবা 106 টা।
২০১০ সালের ১১ নভেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ৪৫০১টি ইউনিয়নে একযোগে ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র উদ্বোধন করেন যা বর্তমানে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (UDC) নামে সুপরিচিত।
ইউনিয়ন পর্যায়ে UDC গুলো নাগরিকবৃন্দের জীবনমান পরিবর্তনে ইতিবাচক অবদানের ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে দেশের ৩২৮টি পৌরসভায় পৌর ডিজিটাল সেন্টার (PDC) এবং ১১টি সিটি কর্পোরেশনের ৪৬৫টি ওয়ার্ডে নগর ডিজিটাল সেন্টার (CDC), ২০১৮ সালে বিশেষ জনগোষ্ঠীর চাহিদার আলোকে ৬টি স্পেশালাইজড ডিজিটাল সেন্টার (SDC) (গার্মেন্টস কর্মীদের জন্য গাজীপুরে ৫টি এবং মৎসজীবী শ্রমিকদের জন্য খুলনার রুপসায় ১টি) এবং সৌদি আরবে ১৫টি এক্সপাট্রিয়েট ডিজিটাল সেন্টার (EDC) চালু করা হয়েছে।
বর্তমানে দেশব্যাপী ৮২৯৭ টি ডিজিটাল সেন্টারে কর্মরত ১৬০৮৭ জন উদ্যোক্তা ব্যাংকিং এবং ই-কমার্স সেবাসহ ৩২০ -এর অধিক সরকারি-বেসরকারি সেবা প্রদান করছেন। ডিজিটাল সেন্টার থেকে ২০২০ সাল নাগাদ মোট সেবা প্রদান করা হয়েছে ৬৮.৪ কোটি। সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নাগরিকদের ১.৬৮ বিলিয়ন সমপরিমাণ কর্ম ঘন্টা, ৯.২৫ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ খরচ এবং ০.৫ বিলিয়ন সমপরিমাণ যাতায়াত সাশ্রয় হয়েছে। নাগরিকদের জীবনমান পরিবর্তনে ইতিবাচক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ডিজিটাল সেন্টার ২০১৪ সালে ই-গভর্নমেন্ট ক্যাটাগরিতে জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (ITU)-এর ওয়ার্ল্ড সামিট অন ইনফরমেশন সোসাইটি (WSIS) অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছে।
১০০ - বিটিআরসি কল সেন্টার।
২৭ই জুলাই ২০১৭ হতে দুদকের মিডিয়া সেন্টারে ‘হটলাইন ১০৬’ উদ্বোধন করেন মাননীয় অর্থমন্ত্রী জনাব আবুল মাল আবদুল মুহিত।
১৬৪৩০ - সরকারি আইনি সহায়তা কল সেন্টার।
১৬১২৩ - কৃষি বিষয়ক যে কোন পরামর্শ পেতে কল করুন। কৃষি,মৎস,প্রানীসম্পদ বিষয়ক যে কোন পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জানতে পারবেন।
১০৯৮ - শিশু সহায়তামুলক কল সেন্টার।
শিশুদের সুরক্ষায় দেশব্যাপীস সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদফতরের অধীনে ইউনিসেফের সহায়তায় চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮ চালু হয়েছে।
১০৯ - নারী নির্যাতন বা বাল্যবিবাহ হতে দেখলেই বিনামূল্যে কল করুন এই নাম্বারে।
৩৩৩ - জাতীয় তথ্যবাতায়ন কল সেন্টার। বাংলেদেশের যে কোন তথ্য জানতে ও সরকারি কর্মকর্তাদেরর সাথে কথা বলতে কল করুন এই নাম্বারে।
ভূমি সেবা ও অভিযোগ ১৬১২২
১০৫ জাতিয় পরিচয় পত্র
দুর্যোগের আগাম বার্তা ১০৯৪১
সুখী পরিবার কল সেন্টার - ১৬৭৬৭
৩৩৩১' কৃষক বন্ধু ফোন সেবা
১৬২৬৩ নম্বরে কল দিলেই ঘরের সামনে যাবে অ্যাম্বুলেন্স
